Header Ads Widget

Responsive Advertisement

শপথ নিলেন আ’লীগ-জাপা ও স্বতন্ত্র এমপিরা

 


শপথ নিলেন আ’লীগ-জাপা ও স্বতন্ত্র এমপিরা

 স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী জাতীয় সংসদ ভবনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদেরকে শপথবাক্য পাঠ করান : পিআইডি - 

 দেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি-জামায়াত ও সমমনাদের বর্জনের মধ্যে অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী সংসদ সদস্যরা শপথ নিয়েছেন। গতকাল বুধবার শেরেবাংলা নগরের সংসদ ভবনের পূর্ব ব্লকের প্রথম লেভেলের শপথ কক্ষে এ শপথ অনুষ্ঠিত হয়। আওয়ামী লীগ, ১৪ দলের শরিক, জাতীয় পার্টি এবং স্বতন্ত্র থেকে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নেন। এর আগে নিয়মানুযায়ী স্পিকার নিজে নিজেই শপথ গ্রহণ করেন।
এ দিন সকালে প্রথমে শপথ নেন শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ তথা নৌকা মার্কায় নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা। এরপর স্বতন্ত্ররা এবং দুপুরে শপথ নেন জাতীয় পার্টি থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা।
গত রোববার বিএনপি-জামায়াতসহ সমমনা দলগুলোর বর্জনের মধ্যে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। মোট ৩০০ সংসদীয় আসনের মধ্যে ২৯৮টি আসনে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও শরিক দলের নেতারা নৌকা মার্কায় ২২৪টি আসন পান। ৬২টি আসন পান স্বতন্ত্রের মোড়কে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্তরের নেতারা। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাথে সমঝোতা করে ২৬ আসনে নির্বাচন করা লাঙ্গল প্রতীকে নির্বাচন করে ১১ আসনে জয় পান জাতীয় পার্টির নেতারা। আর কল্যাণ পার্টি নিজস্ব প্রতীকে একটি আসন পায়।

গতকাল সকালে শপথ নিতে আওয়ামী লীগ ও শরিক দলের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা সংসদ ভবনের ১২ নম্বর গেট দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করেন। স্পিকার শপথ কক্ষে প্রবেশ করেন সকাল ১০টা ৮ মিনিটে। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাসহ নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ শেষে সংসদের রেজিস্ট্রার বইয়ে স্বাক্ষর করেন। এরপর সচিবের দফতরে অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা শেষ করেন। এরপর স্বতন্ত্র এবং জাতীয় পার্টির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করান স্পিকার। জাপা চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের নেতৃত্বে ১১ জন সংসদ সদস্য শপথবাক্য পাঠ করেন।
সংসদ নেতা ও উপনেতা নির্বাচন : এ দিকে প্রধান বিরোধী দলবিহীন নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা দ্বাদশ জাতীয় সংসদের সংসদ নেতা নির্বাচিত হয়েছেন। গতকাল আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্যদের শপথ শেষে অনুষ্ঠিত দলটির সংসদীয় দলের প্রথম সভায় শেখ হাসিনাকে সংসদ নেতা নির্বাচিত করা হয়।
সভা সূত্র জানায়, সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা হিসেবে শেখ হাসিনার নাম প্রস্তাব করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। বর্তমান চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী লিটন ওই প্রস্তাবে সমর্থন জানান। পরে সর্বসম্মতিক্রমে তা গ্রহণ করা হয়। সংসদ নেতা নির্বাচনের পাশাপাশি বৈঠকে সংসদ উপনেতাও নির্বাচিত করা হয়। একাদশ জাতীয় সংসদের উপনেতা মতিয়া চৌধুরীকে দ্বাদশ জাতীয় সংসদেও উপনেতা নির্বাচিত করা হয়। এ ছাড়া বর্তমান স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীকে আবারো স্পিকার হিসেবে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত হয়। ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকুকে আবারো ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের সিদ্ধান্ত হয়। এ ছাড়া বর্তমান চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরীকে দ্বাদশ জাতীয় সংসদে চিফ হুইপ হিসেবে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ নিয়ে আওয়ামী লীগ টানা চতুর্থ মেয়াদে ক্ষমতায় এলো। একইভাবে দলটির প্রধান শেখ হাসিনা টানা চতুর্থ মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন। আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠিত হবে। নতুন মন্ত্রিসভায় অনেক চমক থাকছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

 এর আগে সংসদ ভবনে হাজির হয়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, স্মার্ট, ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত এবং বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়াই আমাদের লক্ষ্য। নীলফামারী-২ (সদর) আসনের এমপি আসাদুজ্জামান নূর বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ যে ইশতেহার ঘোষণা করেছে, তা বাস্তবায়নে আমরা কাজ করব। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ করে যাবো, এটাই আমাদের লক্ষ্য।
বিরোধী দল নিয়ে ধোঁয়াশা : বিএনপি ও সমমনাদের বর্জনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ফের ক্ষমতায় বসছে এটা প্রায় আগে থেকেই নিশ্চিত ছিল; কিন্তু বিরোধী দল কারা হবে- এ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে সর্বমহলে। আওয়ামী লীগের দীর্ঘ দিনের রাজনৈতিক

 মিত্র জাতীয় পার্টি এবারো সমঝোতার মাধ্যমে নির্বাচন করে। ২৬টি আসনে জাপাকে ছাড় দেয় ক্ষমতাসীনরা। যেখানে নৌকার কোনো প্রার্থী ছিল না। তবে এই ২৬টিসহ মোট ২৬৫টি আসনে লাঙ্গলের প্রার্থী রাখে জাতীয় পার্টি। নির্বাচনকে বহির্বিশ্বের কাছে অংশগ্রহণমূলক দেখানোর অংশ হিসেবেই সারা দেশে লাঙ্গলের ‘ডামি প্রার্থী’ রাখা হয় বলে জানা যায়। এই নির্বাচনে জাপা মাত্র ১১টি আসনে জয়লাভ করে। গত একাদশ সংসদে ২২ জন নির্বাচিত হয় জাপা থেকে। এবার অর্ধেক আসন কম পাওয়ায় হতাশার সুর পার্টি চেয়ারম্যান জি এম কাদেরসহ নেতাদের মুখে। অন্য দিকে ৬২টি আসনে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করে বিজয়ী হন আওয়ামী লীগের মনোনয়নবঞ্চিত বিভিন্ন স্তরের নেতারা। নির্বাচনের রাত থেকে তাই বিরোধী দল কে হচ্ছে সেই প্রশ্ন সর্বমহলে ঘুরপাক খাচ্ছে। নির্বাচনপরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সংসদ নেতাই বিষয়টি চূড়ান্ত করবেন। গতকালও তিনি বলেছেন, সংসদ নেতা স্পিকারের সাথে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন। গুঞ্জন রয়েছে, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মোর্চা করে সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ও উপনেতা বানানো হতে পারে। স্বতন্ত্রদের মধ্যে মোর্চা করে যদি বিরোধী দল গঠন হয় সে ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র থেকে পাস করা ফরিদপুর-৩ আসনের এমপি এ কে আজাদের নাম বিরোধীদলীয় নেতার নাম হিসেবে গুঞ্জন উঠেছে। ব্যবসায়ী এ নেতা গতকাল শপথ গ্রহণের আগে সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সবাই একত্রে থাকব, এ রকম একটা প্রিলিমিনারি (প্রাথমিক) আলোচনা হয়েছে। সে রকম কংক্রিট কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।’

 

এ কে আজাদ বলেন, তবে সবকিছু নির্ভর করছে প্রধানমন্ত্রীর ওপর। যেহেতু আমরা মোস্ট অব দেম উই আর ফ্রম আওয়ামী লীগ (অধিকাংশই এসেছি আওয়ামী লীগ থেকে)। এফবিসিসিআই-এর সাবেক এ সভাপতি বলেন, তিনি চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কাজ করবেন। কর্মসংস্থান তৈরিতেও তিনি কাজ করতে চান।
এর আগে গত মঙ্গলবার ফরিদপুর শহরের ঝিলটুলিতে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি জানান, দ্বাদশ জাতীয় সংসদে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নিয়ে জোট গঠন করে বিরোধী দলের নেতা হওয়ার প্রস্তাব পেয়েছেন। এ দিন তিনি বলেন, ‘নেত্রীর (শেখ হাসিনা) আহ্বানে আমরা স্বতন্ত্র দাঁড়িয়েছি, আমরা কিন্তু আওয়ামী লীগের বাইরের কেউ না। যদি নেত্রী মনে করেন আমাদের বিরোধী দল গঠন করা উচিত, তাহলে হবে। যেহেতু জাতীয় পার্টি মাত্র ১১টি সিট পেয়েছে, আর স্বতন্ত্র পেয়েছে ৬২টি আসন।’

এ কে আজাদ বলেন, ‘অনেক বিদেশী আমাকে ফোন করেছেন যে, আপনাকে নিয়ে চিন্তা করা হচ্ছে; আপনি বিরোধী দলের নেতা হতে রাজি আছেন কি না। আমি তাদের উত্তরে বলেছি, সবকিছুই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনাসাপেক্ষে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’
স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী আলোচিত আরেক নাম মজিবুর রহমান চৌধুরী (নিক্সন চৌধুরী)। ফরিদপুর-৪ (ভাঙ্গা-সদরপুর-চরভদ্রাসন) আসন থেকে টানা তৃতীয়বার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত নিক্সন চৌধুরী গতকাল শপথ গ্রহণের আগে সাংবাদিকদের বলেন, ‘এখনো বিরোধী দল গঠন হয় নাই। আমরা আজকে শপথ নেবো। তারপর আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেবো। আমরা জোট করব। জোট অবশ্যই করব।’ 

 তবে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও মাদারীপুর-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য শাজাহান খান গতকাল বলেন, ‘স্বতন্ত্রদের বিরোধী দল হওয়ার কোনো সুযোগ আমি সংবিধান অনুযায়ী দেখি না।’
বিরোধী দলেই থাকতে চায় জাপা : এ দিকে গতকাল জাতীয় সংসদ ভবনে শপথ গ্রহণ শেষে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান জি এম কাদের বলেছেন, তারা বিরোধী দলে ছিলেন এবং বিরোধী দলেই থাকতে চান। রংপুর সদর-৩ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য জি এম কাদের একাদশ জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় উপনেতার দায়িত্ব পালন করছেন। বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ এবার নির্বাচন থেকে ছিটকে পড়েছেন জাপার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক গ্যাঁড়াকলে।

জি এম কাদের বলেন, ‘সংসদে আসার অনুভূতি সবসময়ই ভালো। সে দিক দিয়ে বলতে গেলে আবার সংসদে আসলাম সেটি আনন্দের বিষয়।’
স্বতন্ত্ররা জোট করে বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচন করলে তাতে বাংলাদেশের আইনে কোনো বাধা নেই। আর সে রকম হলে গত দুই সংসদে প্রধান বিরোধী দলের আসনে বসা জাতীয় পার্টি সেই তকমাও হারাতে পারে। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে জি এম কাদের বলেন, ‘আমি ঠিক জানি না নিয়মটা কী। তবে আমরা বিরোধী দলে ছিলাম এবং বিরোধী দলে থাকতে চাই। আমরা জনকল্যাণমুখী, যেটা জনগণের ভালো হয় সেটিই আমরা করতে চাই।’ 

 শপথ গ্রহণ শেষে জাপা মহাসচিব ও কিশোরগঞ্জ-৩ আসনের নবনির্বাচিত এমপি মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, সংসদে সরকারের ত্রুটি ধরিয়ে দিতে গ্রুপ লাগে না। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে ১১টি আসনের জয় নিয়েই সংসদে বিরোধী দলের আসনে বসে ‘নিজেদের দায়িত্ব’ পালন করতে চান জাতীয় পার্টির মহাসচিব। তার ভাষ্য, ‘আমরা কোনো শরিক না। আমরা সংসদে অপজিশনে বসে নিজেদের দায়িত্ব পালন করব। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, সংসদে জনগণের পক্ষে যদি ভূমিকা রাখতে হয়, তবে গ্রুপওয়াইজ হওয়া লাগবে, তা তো কোনো কথা না। নিজে থেকে দায়িত্ব নিয়েই আমরা কথা বলতে পারব বিরোধীদলীয় এমপি হিসেবে। বিরোধী দলের একজন এমপি, কেউ স্বতন্ত্রে যদিও থাকেন, সে যদি সরকারের ত্রুটি নিয়ে জনগণের পক্ষে কথা বলতে চান, অবশ্যই পারেন।

 

0 Comments:

Post a Comment